মার্কিন বাণিজ্য তদন্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের

মার্কিন বাণিজ্য তদন্তের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়েছে ব্রাজিল।

মার্কিন বাণিজ্য তদন্তের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়েছে ব্রাজিল। পাশাপাশি বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে ওয়াশিংটনকে একতরফা পদক্ষেপ না নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ব্রাসিলিয়া। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী ব্রাজিলের বাণিজ্য বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্য, শুল্ক ও অন্যান্য নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কিনা এবং সেগুলো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার সুযোগ বা পরিসরকে সীমাবদ্ধ করছে কিনা, তা বিবেচনা করা হচ্ছে এ তদন্তে। ব্রাজিল সরকার এর জবাবে ৯১ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে।

ব্রাজিল বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা তদন্তের কর্তৃত্ব স্বীকার করে না। এ ধরনের তদন্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইনগত কাঠামোর বাইরে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের বিষয়ে ডব্লিউটিওতে পরামর্শ চাইতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে ব্রাজিল। যেখানে বলা হচ্ছে, বাণিজ্য বিরোধ সমাধানে বহুপক্ষীয় কাঠামোকেই প্রাধান্য দিতে চায় তারা। এমন পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি ব্রাজিল থেকে আমদানীকৃত বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ব্রাজিলের ইথানল বাজার ও জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম পিক্স-সংক্রান্ত নীতি মার্কিন ব্যবসার ক্ষতি করছে। তবে ব্রাজিল এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। তাদের দাবি, ব্রাজিলের বাণিজ্যনীতি কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈষম্যমূলক বা ক্ষতিকর নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ একটি একতরফা হাতিয়ার, যা বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার নীতি ও নিয়মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

ব্রাজিলের মতে, বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে আলোচনাই সর্বোত্তম সমাধান। দেশটি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনে নিজেদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) কার্যালয় এখনো ব্রাজিলের জবাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডব্লিউটিওর বাইরে থেকে তদন্ত চালিয়ে যায়, তাহলে বিরোধ আরো তীব্র হতে পারে।

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ব্রাজিল অনেক দিন ধরেই বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। দেশটির সাম্প্রতিক এ পদক্ষেপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা নয়, বরং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের নীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগকেও সামনে আনছে।

আরও